স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়,আইসি রেজাউল করিমের সাথে মাদক কারবারি ও জুয়াড়িদের গভীর দহরম-মহরম সম্পর্ক রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ পাওয়ার বিনিময়ে তাদের অবাধে ব্যবসার সুযোগ করে দিচ্ছেন তিনি। এর ফলে মনিরামপুর ও অভয়নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে নেহালপুরে। এতে বিপথগামী হচ্ছে এলাকার যুবসমাজ,বাড়ছে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা।
গত ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে আইসি রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে লাগামহীন চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে: আকিজ গ্রুপ থেকে পুলিশ ক্যাম্পের জন্য দেওয়া ঈদ উপহার সামগ্রী তিনি ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছেন। প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করেছেন। কপালিয়া মাছের আড়ত থেকে নগদ অর্থ ও মাছ সংগ্রহ এবং ঈদ বাজারের নাগরদোলা থেকে ৩ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক মাছ-মাংস ও উপঢৌকন আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
আইসি রেজাউলের লালসার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না সাধারণ কৃষকও। স্থানীয়রা জানান,যে ক্ষেতে ভালো সবজি হয়,সেখান থেকে কৃষকদের ডেকে টাকা না দিয়েই সবজি নিয়ে যান তিনি। এছাড়া বিভিন্ন ঘের থেকে ক্যাম্পের নামে মাছ নিয়ে নিজ বাড়িতে পাঠান। এমনকি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার না করে তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মুরগি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও মুখে মুখে। ক্যাম্পের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও এলইডি বাল্ব স্থানীয় ব্যবসায়ীদের থেকে নিয়ে নিজের বাসায় ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
আইসির এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ খোদ পুলিশ সদস্যরাও। তার সাথে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন সদস্য ‘পার্ট টু’ (বদলি) আবেদন করেছেন। জানা গেছে, হানিফ খান, নাজমুল হাসান এবং অরূপ রতনের আবেদন মঞ্জুর হওয়ায় তারা অন্যত্র চলে গেছেন। আরও চারজন সদস্য বদলির অপেক্ষায় রয়েছেন।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে আইসি রেজাউল করিম বলেন, “মাদক কারবারি বা জুয়াড়িদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। যারা বদলি হয়েছেন, তারা দীর্ঘ সময় এক স্থানে থাকায় নিয়মিত প্রক্রিয়ায় চলে গেছেন।” চাঁদাবাজির বিষয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি প্রতিবেদককে নেহালপুরে চা পানের আমন্ত্রণ জানান। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত আইসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নেহালপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে যাবে।
এবিডি.কম/শিরিনা